সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

Notice :
সারা বাংলাদেশ ব্যাপী বিভিন্ন জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে..........চট্টগ্রাম অফিস: সৈয়দ নূর বিল্ডিং , এম এ আজিজ রোড, সিমেন্ট ক্রসিং, দক্ষিণ হালিশহর, চট্টগ্রাম।মোবাইল নাম্বারঃ ০১৯১১৫৩৩৩০৮, ০১৭১১৪৬৭৫৩৭, E-mail: gsmripon@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে”বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ,বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে সিএমপিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিং প্যারেড বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন বিএসএফ এইচ পাওয়ার ও সিএনজি চালক কমিটির কার্ড বিতরণ। জুলাই-আগস্টের শহীদরা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—মেয়র ডা.শাহাদাত হোসেন ভবদহ পানি নিষ্কাসন সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক এর মৃত্যুতে অভয়নগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের শোক প্রকাশ। লামায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা লুটপাটের মহড়ায় জিএম ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ নির্বাহী পরিচালক প্রযুক্তি নিয়মিত করছেন নাবিক বানিজ্য। বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতি বন্দর ইপিজেড-পতেঙ্গা থানা’র বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনলাইন আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান মসজিদের জায়গা দখল করে পতিতালয়, ভেঙে দিয়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বিপুল পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ সহ মিন্টুকে আটক করেছে-> কোস্ট গার্ড

চট্টগ্রামের সদরঘাটে দিনের আলোতে তাণ্ডব: ৬০-৭০ জনের সংঘবদ্ধ হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত একাধিক

চট্টগ্রামের সদরঘাটে দিনের আলোতে তাণ্ডব: ৬০-৭০ জনের সংঘবদ্ধ হামলা-লুটপাটের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত একাধিক

এবাদুল হোসেনের ঃ- ভ্রম্যমাণ প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানাধীন সাহেবপাড়া এলাকায় সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১২ জুলাই ২০২৬ (রোববার) সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ হামলা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। এ সময় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মারধরের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাহেবপাড়ার শনি মন্দির গলিতে প্রবেশ করে প্রথমে শনি মন্দির সংলগ্ন *’মা-বাবার দোয়া ফিশ সেন্টার’**সহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়। এরপর তারা ইনুস মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন গলিতে প্রবেশ করে একের পর এক বসতবাড়িতে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘরে থাকা পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বের করে দিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়।

ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে জানান, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ মিনিট পর সদরঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের একটি অংশ পূর্বপ্রস্তুত একটি ‘মাদকবিরোধী উচ্ছেদ অভিযান’ লেখা ব্যানার বের করে পুলিশের সামনে স্লোগান দিতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় ১০ থেকে ১৫ জন ব্যানার হাতে পুলিশের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিলেও দলের বাকি সদস্যরা গলির ভেতরে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যায়। পরে আরও পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা লুট করা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে সরে পড়ে।

জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য এবং একাধিক ডিজিটাল ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে অভিযোগ পাওয়া যায়, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন অপরাধ মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে রয়েছেন— জিলানী, কাওছার (বুইষ্যা), তুফান, জাহাঙ্গীর (ঘাটলা জাহাঙ্গীর), সুজন, শুভ, রায়হান, রিয়াদ, মোল্লা মাঝি, রুবেল, রানা, নূর হোসেন, হাসান, সজল, সাকিল, নোমান, ইবু, বেলাল, সুজন (রানার শালা), শান্ত, মারুপ, আনোয়ার মাঝি, কালু, জনি মাঝি, জয়েনাল, শরীফ, মানিক, রিফাত, হোসেন, সাকিল (২) ও তানবিরসহ আরও অনেকে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সময় নারী ও শিশুদের প্রতিও কোনো দয়া দেখানো হয়নি। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুমা আক্তার অভিযোগ করেন, তিনি হামলাকারীদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তাকে মারধর না করা হয়। কিন্তু তার দাবি, এরপরও তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ঘর থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এতে তিনি তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে পড়ে যান। তার অভিযোগ, সেখানেও হামলাকারীরা তাকে মারধর করতে থাকে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত অন্তত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, হামলায় অন্তত পাঁচটি বসতবাড়ি ও তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ফলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় এখন পর্যন্ত সদরঘাট এই ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েনি কেউ যদি অভিযোগ দায়ের কর অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2023 Channel69tv.net.bd
Design & Development BY ServerNeed.com