বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
মোঃ শাহরিয়ার রিপন ঃ- চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের চলতি দ্বায়িত্ব জিএম ও নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফের দুর্নিতির ফিরিস্তি অনেক লম্বা। অর্থ লুটপাটের খলনায়কের ভূমিকায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিএসসি’র শুন্য পদে ৮বছর ধরে বহাল তবিয়তে ধরে রাখার নেপথ্যে কার হাত,,?
৮ বছরেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি শুন্য পদে কারণ কি,?
অভিযোগের সুত্র ধরে জানা যায়, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বিএসসি এর নির্বাহী পরিচালক প্রযুক্তি এর শুন্য পদে ৮ বছর ধরে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) কে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তিনি সেই সুযোগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংস্থার অর্থ লুটপাটের মহড়া করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছেন।
সীমাহীন দুর্নীতির কারণ ঐ পদটির আব্বায়ক ও পার্টস মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ ক্রয় করার দায়িত্বটাও তার।
যে কারণে স্বল্প মূল্যের পার্টস যন্ত্রাংশ ক্রয় করে বিশ্বের দামি পার্টস ও মেশিনের যন্ত্রাংশ সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করে তার বিল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
অন্যদিকে প্রায় পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে নির্বাহী পরিচালক অর্থ পথটি শূন্য রয়েছে ফলে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজের খেয়াল খুশিমতো বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে গিয়েছে একটি প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে বিএসসি।
জাহাজ মেরামতের জন্য বাৎসরিক বাজেট ১০ কোটি টাকা থাকলেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা হয়ে যায় ৭৫ কোটি টাকা বাকি ৬৫ কোটি টাকা বিল করে তুলেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া নির্বাহী পরিচালক প্রযুক্তি যার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।
নাবিক বানিজ্যর মাধ্যমেও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইউসুফে’র বিরুদ্ধে, সুত্রটি বলছে, ঘুষ গ্রহণ করে দুর্নীতির মাধ্যমে যে সকল, ইটিও(জুনিয়র ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার) নাবিক,ফায়ারম্যান,ওএস,জিএস,কুক,সহ সকল
জাহাজী কর্মকর্তাদের সংস্থার বহরে নিয়োগ করা হয়েছে ৪/৫ লক্ষ টাকা প্রতিজনে, তারা সংস্থার বহরে থাকা জাহাজ সমুহ সঠিকভাবে অপারেশনাল কার্যক্রমে যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন না হওয়ায় সমুদ্র বন্দরে জাহাজগুলো সার্ভেয়ার কতৃক বিপুল অংকের জরিমানাসহ ডিমেরিট পয়েন্ট অর্জন করে যার কারনে চার্টারারদের নিকট উচ্চ মূল্যে জাহাজ ভাড়া দেওয়া কমে এসেছে।
উল্লেখ্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফের দায়িত্বহীনতার কারণে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদাসীনতার ফলে সংস্থার একটি জাহাজ সমুদ্রে অ্যারেস্ট হয়। জাহাজটি উদ্ধারের জন্য সংস্থাকে বাংলাদেশী টাকায় প্রায় তিন কোটি টাকা জরিমানা গুনতে হয়।
পদোন্নতি বাণিজ্যর মাধ্যমেও কোর্ট কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ এর বিরুদ্ধে সূত্রটি বলছে,
গত ১৯/২/২০২৫ ইং তারিখে সংস্থার বিএসসি মেরিন ওয়ার্কশপের অপারেটিভ কর্মচারীদের পদোন্নতির জন্য সভা অনুষ্ঠিত হয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে ঘুষ গ্রহণের লক্ষ্যে বিধিবহির্ভূতভাবে ভিত্তিহীন বাছাই উপ কমিটির সভাপতি হন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ,
কিন্তু সংস্থার মেরিন ওয়ার্কসপে কর্মরত দক্ষ গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সহ পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অদক্ষ অযোগ্য অল্প শিক্ষিত অপারেটিভ কর্মচারীসহ অদক্ষ অষ্টম শ্রেণী পাস অপারেটিভ কর্মচারী প্রার্থীদের পদোন্নতির সুপারিশ করেন। যা সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী প্রবিধানমালা ১৯৯৭এর সংশ্লিষ্ট ধারা উপধারা এবং পদোন্নতি নীতিমালার পরিপন্থী।
জাহাজ মেরামত খাত সহ সংস্থার অন্যান্য খাতে অনিয়মের মাধ্যমে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফের বিরুদ্ধে, সূত্রটি বলছে,,
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুপ সংস্থার টাকা আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে নিজেদের পছন্দ সই ঠিকাদারদের মাধ্যমে জাহাজ মেরামতের কাজ করান ১০ টাকার কাজ বা যন্ত্রাংশ হাজার টাকায় ক্রয় দেখিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।
এবং বিএসসির কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছেন। ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে সংস্থার এমটি বাংলার জ্যোতি ও এমটি সৌরভ জাহাজ মেরামতের অযোগ্য হওয়া সত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে জাহাজ দুটি মেরামত বাবদ ৫,৬৬,৭৬,৯২৭ ( পাঁচ কোটি ছেষট্টি লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার নয়শত সাতাশ) টাকা ব্যায় দেখিয়ে সংস্থার অর্থ লুটে নেন।
সমস্ত অনিয়ম দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার সংস্থার অর্থ আত্মসাত এর ঘটনা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু সংস্থার পরিচালক নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করার উদ্দেশ্য কি??তাহলে কি তিনি সকল অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষা করায় স্পষ্ট হয় যে তিনি সকল অপকর্ম কারীদের অপকর্ম করার সহযোগিতা করছেন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য,,??
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের লুটপাটের এ দৃশ্য দৃশ্যমান বাংলাদেশ সরকারের নৌ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সচিব, যুগ্ন সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন, ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন চেয়ারম্যানের কাছে দাবি এই লুটপাটের মহড়া থেকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। এবং অভিযুক্ত জিএম ও নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউসুফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ভ্যবস্থা গ্রহন করে তাদের কে চাকুরীচ্যুত করে তাদের স্থাবর অস্থাবর সকল সম্পত্তি ক্রোক করে কঠোরভাবে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানায়।