বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনার সুরক্ষায় অননুমোদিত ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ ও প্রচার ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান।
মোঃ শাহরিয়ার রিপন ঃ- চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং জাতীয় অর্থনীতি, আমদানি রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা বিধিমালা অনুসরণ করে বন্দরের কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রাম বন্দর ISPS অনুসরনকারী বন্দর হিসেবে Zero Observation অর্জন করেছে। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণীর Key Point Installation (KPI) হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সংবেদনশীল স্থাপনাসমূহের সুরক্ষা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ এর ১২ ধারা অনুযায়ী বন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে এবং সর্বসাধারণের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বন্দর সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল স্থান ও স্থাপনা সংরক্ষতি বন্দর এলাকা হিসাবে বিবেচিত । তদুপরি, Official Secrets Act, 1923-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল স্থান, তথ্য, নকশা, ছবি বা অন্যান্য উপাত্তের অননুমোদিত ধারণ, প্রকাশ বা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে।
কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, গণমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা, নজরদারি সক্ষমতা, স্থাপনার বিন্যাস, অপারেশনাল তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অতএব, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত বন্দরের সংবেদনশীল স্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার অননুমোদিত ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ, স্কেচ প্রণয়ন বা যেকোনো ধরনের দৃশ্যমান তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো। বিশেষ করে KPI, সংরক্ষিত এলাকা, এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনুমতিবিহীন কার্যক্রম কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে।
এ প্রেক্ষিতে বন্দর ব্যবহারকারী সকলকে এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ ধরনের অননুমোদিত তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের মাধ্যমে বন্দর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন, নিরাপত্তা বিধিমালা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।